ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতাল ডাক্তার লিস্ট

ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতাল ডাক্তার লিস্ট খুঁজছেন? ইস্পাহানি ইসলামিয়া চক্ষু ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী এখানে শিশু চক্ষু, কর্নিয়া, ছানি, ফ্যাকো সার্জারি এবং ভিট্রিও-রেটিনা চিকিৎসার বিশেষজ্ঞ রয়েছেন। তাই ঢাকার মনিপুরীপাড়া, ফার্মগেটের এই প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার আগে রোগের ধরন অনুযায়ী সঠিক বিভাগ বেছে নিলে সময় বাঁচে এবং সিরিয়াল নেওয়ার প্রক্রিয়াও সহজ হয়।

প্রতিষ্ঠানটির ঠিকানা ১১৬/সি/২, মনিপুরীপাড়া, ফার্মগেট, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ। সিরিয়ালের জন্য দেওয়া ফোন নম্বর ০৯৬১০৯৯৮৩৩৩। কল করার সময় সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত। তবে শুক্রবার ব্যতীত এই সময়সূচি প্রযোজ্য বলে জানানো হয়েছে।

নাম নিয়ে একটি বিষয়: প্রদত্ত তথ্যের কোথাও প্রতিষ্ঠানটিকে ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতাল এবং কোথাও ইস্পাহানি ইসলামিয়া চক্ষু ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল বলা হয়েছে। তাই ফোনে যোগাযোগের সময় হাসপাতালের পূর্ণ নাম এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগের নাম বলে সিরিয়াল নিশ্চিত করুন।

সংক্ষিপ্ত তথ্যঃ

  • এখানে ১০ জন চক্ষু বিশেষজ্ঞের নাম ও চিকিৎসা-ক্ষেত্র দেওয়া হয়েছে।
  • সিরিয়ালের ফোন নম্বর: ০৯৬১০৯৯৮৩৩৩। কলের সময় সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা।
  • ঠিকানা: ১১৬/সি/২, মনিপুরীপাড়া, ফার্মগেট, ঢাকা-১২১৫।
  • তবে ডাক্তারের চেম্বার ও OPD সময় পরিবর্তিত হতে পারে। যাওয়ার আগে ফোনে যাচাই করুন।

ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতাল ডাক্তার লিস্টে কোন বিশেষজ্ঞ আপনার জন্য উপযুক্ত?

রোগের প্রধান লক্ষণ এবং চিকিৎসার প্রয়োজন অনুযায়ী বিশেষজ্ঞ বেছে নেওয়াই সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি। যেমন শিশুদের চোখের সমস্যা হলে শিশু চক্ষু বিশেষজ্ঞের কাছে যাওয়া ভালো। আবার ছানি বা চোখের লেন্সের সমস্যা থাকলে ফ্যাকো সার্জন কিংবা ছানি বিশেষজ্ঞ উপযুক্ত হতে পারেন।

কর্নিয়ার দাগ, চোখের সামনের অংশের জটিলতা বা দীর্ঘদিনের চোখের অস্বস্তিতে কর্নিয়া ও অ্যান্টিরিওর সেগমেন্ট বিশেষজ্ঞের পরামর্শ দরকার হতে পারে। অন্যদিকে চোখের পর্দা, রেটিনা বা হঠাৎ দৃষ্টির পরিবর্তন থাকলে ভিট্রিও-রেটিনা বিভাগকে অগ্রাধিকার দিন।

সমস্যা বা প্রয়োজনপ্রাসঙ্গিক বিশেষজ্ঞলক্ষ্য করার বিষয়
শিশুর চোখের সমস্যাডা. মো. মোস্তফা হোসেনশিশু চক্ষু রোগ বিশেষজ্ঞ
ছানি ও লেন্সের চিকিৎসাফ্যাকো সার্জন বা ছানি বিশেষজ্ঞঅপারেশনের আগে পরীক্ষা দরকার হতে পারে
কর্নিয়ার সমস্যাকর্নিয়া বিশেষজ্ঞকর্নিয়া ও অ্যান্টিরিওর সেগমেন্ট মূল্যায়ন
রেটিনা বা ভিট্রিও সমস্যাডা. মোস্তাফিজুর রহমান মোশতাকরেটিনা-সংক্রান্ত মূল্যায়ন

ধরা যাক একজন রোগীর ঝাপসা দেখার সমস্যা আছে। একদিকে এটি শুধু চশমার পাওয়ার বাড়ার কারণে হতে পারে। অন্যদিকে ছানি বা রেটিনার সমস্যার সঙ্গেও এর সম্পর্ক থাকতে পারে। তাই শুধু নাম দেখে ডাক্তার বাছাই না করে লক্ষণটি কতদিনের এবং এক চোখে নাকি দুই চোখে হচ্ছে তা জানিয়ে সিরিয়াল নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।

আরও জেনে নিনঃ পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার শান্তিনগর ডাক্তার লিস্ট

ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালের ১০ জন চিকিৎসকের তালিকা

নিচের তালিকাটি ব্যবহারকারীর দেওয়া হাসপাতাল-সংক্রান্ত তথ্যের ভিত্তিতে সাজানো হয়েছে। ডিগ্রি, পদবি এবং বিশেষত্ব একই তথ্য অনুযায়ী রাখা হয়েছে। তবে চিকিৎসকের বর্তমান চেম্বার, রোগী দেখার দিন অথবা সিরিয়াল-সীমা বদলাতে পারে।

১. ডা. মো. মোস্তফা হোসেন

ডা. মো. মোস্তফা হোসেন শিশু চক্ষু রোগ বিশেষজ্ঞ। তাঁর যোগ্যতার মধ্যে রয়েছে এমবিবিএস, ডিও, এমএস (আই) এবং ফেলোশিপ ইন পেডিয়াট্রিক অফথালমোলজি। এছাড়া তাঁকে ইস্পাহানি ইসলামিয়া চক্ষু ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে পেডিয়াট্রিক অফথালমোলজি বিভাগের সিনিয়র কনসালট্যান্ট হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

শিশুর চোখ বাঁকা দেখা, চোখে পানি পড়া, পড়াশোনার সময় চোখ কুঁচকে দেখা অথবা দৃষ্টির সমস্যা থাকলে এই বিভাগের পরামর্শ প্রাসঙ্গিক হতে পারে। তাই শিশুর বয়স এবং আগের রিপোর্ট সঙ্গে রাখলে চিকিৎসকের মূল্যায়নে সুবিধা হয়।

২. সহকারী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ রাশেদ আলম

সহকারী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ রাশেদ আলম চক্ষু বিশেষজ্ঞ এবং ফ্যাকো সার্জন। তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা এমবিবিএস, এমএস (আই) এবং এফআইসিও। প্রদত্ত তথ্যে তাঁকে কর্নিয়া বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

ছানি, লেন্স-সংক্রান্ত সমস্যা এবং কর্নিয়ার মূল্যায়নের জন্য তাঁর বিশেষত্ব বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে অপারেশনের সম্ভাবনা থাকলে রোগীকে চোখের পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় রিপোর্ট সম্পর্কে ফোনে আগে জেনে নেওয়া উচিত।

৩. ডা. আব্দুস সালাম

ডা. আব্দুস সালাম কর্নিয়া এবং অ্যান্টিরিওর সেগমেন্ট বিশেষজ্ঞ। তাঁর যোগ্যতা এমবিবিএস এবং ডিও। একই সঙ্গে তাঁকে ছানি, কর্নিয়া এবং চোখের সামনের অংশের চিকিৎসায় কনসালট্যান্ট হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

কর্নিয়ায় ঘোলাভাব, চোখে বারবার জ্বালা, আঘাতের পর সামনের অংশে সমস্যা অথবা ছানির লক্ষণ থাকলে এই বিশেষত্বটি রোগীর প্রয়োজনের সঙ্গে মিলতে পারে। তবে চূড়ান্ত বিভাগ নির্ধারণ করবেন চিকিৎসক।

৪. ডা. মোস্তাফিজুর রহমান মোশতাক

ডা. মোস্তাফিজুর রহমান মোশতাক ভিট্রিও-রেটিনা এবং ফ্যাকো আইওএল মাইক্রোসার্জারি বিশেষজ্ঞ। তাঁর যোগ্যতার মধ্যে এমবিবিএস, ডিও (ডিইউ), ভারতে ফ্যাকো আইওএল মাইক্রোসার্জারির ফেলোশিপ এবং পাকিস্তানে ভিট্রিও-রেটিনা ফেলোশিপ রয়েছে।

তাঁকে ছানি এবং রেটিনা বিভাগে সিনিয়র কনসালট্যান্ট হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে চোখের সামনে হঠাৎ কালো দাগ দেখা, আলোর ঝলকানি, দৃষ্টির পর্দা নেমে আসার মতো অনুভূতি অথবা ডায়াবেটিস-সম্পর্কিত চোখের সমস্যা থাকলে দ্রুত চক্ষু মূল্যায়ন জরুরি হতে পারে।

৫. সহকারী অধ্যাপক ডা. চন্দনা সুলতানা

সহকারী অধ্যাপক ডা. চন্দনা সুলতানা চক্ষু, কর্নিয়া, অ্যান্টিরিওর সেগমেন্ট এবং ছানি বিশেষজ্ঞ। তাঁর যোগ্যতা এমবিবিএস, ডিও, এমডি (রাশিয়া) এবং এফসিপিএস (আই)। পাশাপাশি তাঁকে কর্নিয়া বিভাগে কনসালট্যান্ট এবং সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

কর্নিয়া ও ছানির মতো সমস্যায় একই সঙ্গে মূল্যায়ন দরকার হলে এই বিশেষত্ব সহায়ক হতে পারে। বিশেষ করে পুরোনো রিপোর্ট থাকলে সেগুলো ধারাবাহিকভাবে সাজিয়ে নিয়ে যাওয়া সময় কমাতে সাহায্য করে।

৬. ডা. মুনতাকিম শহীদ

ডা. মুনতাকিম শহীদ কর্নিয়া এবং অ্যান্টিরিওর সেগমেন্ট বিশেষজ্ঞ। তিনি এমবিবিএস, ডিও এবং এফসিপিএস (আই) ডিগ্রিধারী। প্রদত্ত তথ্যে তাঁকে ছানি, কর্নিয়া এবং অ্যান্টিরিওর সেগমেন্ট বিভাগের কনসালট্যান্ট বলা হয়েছে।

চোখের সামনের অংশে অস্বস্তি বা দৃষ্টির স্বচ্ছতা কমে গেলে এই বিভাগের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে। যোগাযোগের সময় রোগীর আগের চশমার প্রেসক্রিপশন এবং চোখের চিকিৎসার ইতিহাস জানালে সিরিয়াল প্রক্রিয়া আরও পরিষ্কার হয়।

৭. ডা. এএসএম মঈন উদ্দিন

ডা. এএসএম মঈন উদ্দিন চক্ষু বিশেষজ্ঞ এবং ফ্যাকো সার্জন। তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা এমবিবিএস এবং ডিও। তাঁকে অফথালমোলজি বিভাগের কনসালট্যান্ট হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

ছানি বা সাধারণ চক্ষু পরীক্ষার প্রয়োজনে তাঁর বিশেষত্ব বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে একজন রোগীর দৃষ্টির সমস্যা ছানি থেকে নাকি অন্য কোনো কারণে হচ্ছে তা বুঝতে সাধারণ পরীক্ষা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ দুটোই গুরুত্বপূর্ণ।

৮. ডা. ইউসুফ জামাল খান

ডা. ইউসুফ জামাল খান চক্ষু বিশেষজ্ঞ এবং ফ্যাকো সার্জন। তাঁর যোগ্যতা এমবিবিএস এবং ডিও। প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী তিনি অফথালমোলজি বিভাগের কনসালট্যান্ট।

ছানি বা লেন্স-সংক্রান্ত চিকিৎসার জন্য সিরিয়াল নেওয়ার আগে রোগীর বর্তমান দৃষ্টিশক্তি, আগের অপারেশন এবং নিয়মিত ওষুধের তথ্য প্রস্তুত রাখা ভালো। এতে প্রাথমিক আলোচনায় প্রয়োজনীয় তথ্য দ্রুত দেওয়া যায়।

৯. ডা. মো. আব্দুল মুয়ীদ

ডা. মো. আব্দুল মুয়ীদ চক্ষু বিশেষজ্ঞ এবং ফ্যাকো সার্জন। তিনি এমবিবিএস এবং ডিও ডিগ্রিধারী। তাঁকে অফথালমোলজি বিভাগের কনসালট্যান্ট হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

ছানি এবং চোখের সাধারণ সমস্যায় তাঁর বিভাগটি রোগীর প্রয়োজনের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। তবে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত শুধু উপসর্গের ভিত্তিতে নেওয়া উচিত নয়। বরং পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফল এবং চিকিৎসকের মূল্যায়ন এখানে মূল বিষয়।

১০. ডা. আহমেদ জহির বিন জিয়া

ডা. আহমেদ জহির বিন জিয়া অফথালমোলজি বিশেষজ্ঞ। তাঁর যোগ্যতা এমবিবিএস এবং ডিও। তাঁকে ছানি এবং কম্প্রিহেনসিভ অফথালমোলজি বিশেষজ্ঞ হিসেবে ক্যাটারেক্ট বা ছানি বিভাগে কনসালট্যান্ট হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

চোখের সামগ্রিক পরীক্ষা, দৃষ্টির পরিবর্তন অথবা ছানি-সংক্রান্ত পরামর্শের জন্য এই বিভাগ বিবেচনা করা যেতে পারে। পাশাপাশি রোগীর উপসর্গের সঙ্গে ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপের মতো সহাবস্থার তথ্য জানানোও দরকার।

সিরিয়াল নেওয়ার আগে কোন তথ্য প্রস্তুত রাখবেন?

সিরিয়াল নেওয়ার জন্য ০৯৬১০৯৯৮৩৩৩ নম্বরে সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে কল করা যায়। প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী শুক্রবার বাদে এই সময়ে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। তাই ফোনে ডাক্তার, বিভাগ, রোগী দেখার দিন এবং হাসপাতালের অবস্থান নিশ্চিত করুন।

  1. প্রথমে রোগীর পূর্ণ নাম এবং যোগাযোগ নম্বর লিখে রাখুন।
  2. এরপর সমস্যাটি কতদিনের তা সংক্ষেপে বলুন।
  3. শিশু রোগী হলে বয়স এবং আগের চোখের সমস্যার তথ্য দিন।
  4. ছানি বা অপারেশনের বিষয় হলে আগের রিপোর্টের কথা জানান।
  5. সবশেষে সিরিয়ালের তারিখ, সম্ভাব্য অপেক্ষার সময় এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জেনে নিন।

অ্যাপয়েন্টমেন্টের সময় ফোনে নিশ্চিত না করে সরাসরি গেলে অপেক্ষা বাড়তে পারে। বিশেষ করে দূরবর্তী জেলা থেকে আসা রোগীদের জন্য এই ফোন যাচাই একটি বাস্তব সময়-সাশ্রয়ী পদক্ষেপ। একই দিনে পরীক্ষা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ হবে কি না তাও আগে জেনে নেওয়া ভালো।

হাসপাতালে কী ধরনের চোখের চিকিৎসা পাওয়া যেতে পারে?

প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী ইস্পাহানি ইসলামিয়া চক্ষু ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে চোখের রোগ নির্ণয় এবং সার্জারি-সংক্রান্ত সেবা রয়েছে। এর মধ্যে ছানি বা ক্যাটারেক্ট চিকিৎসা, ফ্যাকো সার্জারি, কর্নিয়া, অ্যান্টিরিওর সেগমেন্ট, ভিট্রিও-রেটিনা এবং শিশু চক্ষু চিকিৎসা অন্তর্ভুক্ত।

এছাড়াও চোখ পরীক্ষা, ভিশন টেস্ট, OCT এবং ফান্ডাস পরীক্ষার মতো ডায়াগনস্টিক সুবিধার কথাও দেওয়া হয়েছে। তবে কোন পরীক্ষা সব রোগীর জন্য প্রয়োজন হবে তা উপসর্গ এবং চিকিৎসকের পরামর্শের ওপর নির্ভর করে। পরীক্ষার খরচ বা রিপোর্ট পাওয়ার সময় এখানে নির্দিষ্টভাবে দেওয়া নেই।

সাধারণত রোগীকে আগের প্রেসক্রিপশন, চোখের রিপোর্ট এবং ব্যবহৃত চশমা সঙ্গে নিতে বলা যায়। একইভাবে ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপ থাকলে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসার কাগজও নিন। এতে চোখের সমস্যাকে সামগ্রিক স্বাস্থ্য-পরিস্থিতির সঙ্গে মিলিয়ে দেখা সহজ হয়।

ঠিকানা ও যাতায়াতের ক্ষেত্রে সময় বাঁচানোর কৌশল

হাসপাতালের ঠিকানা ১১৬/সি/২, মনিপুরীপাড়া, ফার্মগেট, ঢাকা-১২১৫। ফার্মগেট এলাকার যানজটের কারণে নির্ধারিত সময়ের অন্তত কিছুটা আগে বের হওয়া সুবিধাজনক। বিশেষ করে শিশু বা বয়স্ক রোগীর ক্ষেত্রে অপেক্ষার সময় কমানো চিকিৎসা-অভিজ্ঞতাকে আরামদায়ক করে।

প্রথমবার গেলে ফোনে ভবনের প্রবেশপথ এবং কোন কাউন্টারে রিপোর্ট করতে হবে তা জেনে নিন। যদিও ঠিকানা মিলে যায়, নামের ব্যবহারে ইসলামিয়া এবং ইস্পাহানি ইসলামিয়া—দুই ধরনের উল্লেখ দেখা যায়। তাই রাইড বা গাড়িচালককে মনিপুরীপাড়া, ফার্মগেটের নির্দিষ্ট ঠিকানাটি দেখিয়ে দিন।

ঢাকার অন্য এলাকায় চিকিৎসক খুঁজলে পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার শান্তিনগর ডাক্তার লিস্টও দেখা যেতে পারে। তবে দুই প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসক, বিভাগ এবং সময়সূচি আলাদা। সুতরাং তথ্য মিলিয়ে নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিন।

সাধারণ ভুল এবং দরকারি বিশেষজ্ঞ পরামর্শ

চোখের সমস্যা হলে অনেকে শুধু চশমার দোকানে পাওয়ার পরীক্ষা করান। এতে কিছু তথ্য পাওয়া গেলেও চোখের ভেতরের রোগ যেমন রেটিনা বা ছানি শনাক্ত নাও হতে পারে। তাই দৃষ্টি দ্রুত কমলে কিংবা চোখে আলো ঝলকানি দেখা দিলে পূর্ণাঙ্গ চক্ষু পরীক্ষা বেশি নিরাপদ পদ্ধতি।

  • প্রথমত ফোনে সময় না জেনে দূর থেকে রওনা হওয়া এড়িয়ে চলুন।
  • এছাড়াও আগের রিপোর্ট না নিয়ে গেলে একই পরীক্ষা আবার লাগতে পারে।
  • অন্যদিকে অন্যের পরামর্শে চোখের ড্রপ ব্যবহার করবেন না।
  • শিশুর চোখ বাঁকা হলে বড় হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা না করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
  • সবশেষে অপারেশনের আগে খরচ, পরীক্ষা, লেন্স এবং ফলোআপ সম্পর্কে পরিষ্কার প্রশ্ন করুন।

লক্ষ্য করার মতো বিষয় হলো রোগের নাম এবং বিভাগের নাম এক জিনিস নয়। “চোখে কম দেখা” একটি উপসর্গ। এর কারণ ছানি, কর্নিয়া, রেটিনা বা অন্য কোনো সমস্যা হতে পারে। তাই ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতাল ডাক্তার লিস্ট থেকে নির্বাচন করার আগে উপসর্গের ধরন জানানোই সময় ব্যবস্থাপনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতাল ডাক্তার লিস্ট নিয়ে সাধারণ প্রশ্ন

ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালে কী ধরনের সেবা পাওয়া যায়?

প্রদত্ত তথ্যে এখানে চোখের রোগ নির্ণয়, ছানি ও ফ্যাকো সার্জারি, কর্নিয়া, রেটিনা, শিশু চক্ষু এবং লেন্স-সংক্রান্ত পরামর্শ পাওয়ার কথা উল্লেখ আছে।

হাসপাতালটি কি ২৪ ঘণ্টা সেবা দেয়?

সাধারণ OPD নির্দিষ্ট সময়ে চলে। তবে ২৪ ঘণ্টার জরুরি সহায়তা আছে কি না তা নিশ্চিতভাবে জানতে ০৯৬১০৯৯৮৩৩৩ নম্বরে ফোন করুন।

কীভাবে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়া যায়?

হাসপাতালের দেওয়া নম্বরে কল করে সিরিয়াল নেওয়া যায়। কলের সময় সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা এবং শুক্রবার ব্যতীত।

ডাক্তারের সময়সূচি কি স্থায়ী?

চেম্বার বা OPD সময় পরিবর্তিত হতে পারে। তাই ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতাল ডাক্তার লিস্ট দেখার পরও নির্দিষ্ট দিনের সময় ফোনে পুনরায় যাচাই করুন।

কোন ডাক্তার ছানি চিকিৎসা করেন?

তালিকায় কয়েকজন ফ্যাকো সার্জন এবং ছানি বিশেষজ্ঞ রয়েছেন। তবে রোগীর পরীক্ষার ফল অনুযায়ী হাসপাতাল উপযুক্ত চিকিৎসক বা বিভাগ নির্ধারণ করতে পারে।

কর্নিয়ার সমস্যায় কার কাছে যাব?c

ডা. আব্দুস সালাম, ডা. মুনতাকিম শহীদ এবং সহকারী অধ্যাপক ডা. চন্দনা সুলতানা কর্নিয়া-সংক্রান্ত বিশেষত্বে তালিকাভুক্ত। তাই সিরিয়ালের আগে বিভাগটি নিশ্চিত করুন।

শিশুর চোখের সমস্যায় কোন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেব?

ডা. মো. মোস্তফা হোসেন শিশু চক্ষু রোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবে তালিকাভুক্ত। সুতরাং শিশুর বয়স এবং সমস্যার ধরন জানিয়ে তাঁর বিভাগে সিরিয়াল সম্পর্কে জেনে নিন।

হাসপাতালে কী কী রিপোর্ট সঙ্গে নেওয়া উচিত?

আগের প্রেসক্রিপশন, ভিশন টেস্ট, OCT বা ফান্ডাস রিপোর্ট থাকলে সঙ্গে রাখুন। তবে পুরোনো রিপোর্ট না থাকলেও সমস্যা কতদিনের তা চিকিৎসককে স্পষ্টভাবে বলুন।

শেষ কথা

ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতাল ডাক্তার লিস্টে শিশু চক্ষু, কর্নিয়া, ছানি, ফ্যাকো সার্জারি এবং ভিট্রিও-রেটিনা বিভাগের চিকিৎসকদের তথ্য রয়েছে। তাই রোগের ধরন অনুযায়ী বিভাগ বেছে নিয়ে ০৯৬১০৯৯৮৩৩৩ নম্বরে সিরিয়াল নিশ্চিত করলে অপ্রয়োজনীয় অপেক্ষা কমতে পারে।

ঠিকানা, চিকিৎসকের উপস্থিতি, OPD সময় এবং সেবার বিস্তারিত ২০২৬ সালে পরিবর্তিত হতে পারে। তাই হাসপাতালে যাওয়ার আগে ফোনে সর্বশেষ তথ্য যাচাই করুন। জরুরি দৃষ্টিবিভ্রাট, চোখে আঘাত বা হঠাৎ দৃষ্টি কমে গেলে দেরি না করে দ্রুত চক্ষু চিকিৎসা নিন।

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *