জাতীয় বৃক্ষ মেলা ২০২৬। কবে, কোথায় এবং কীভাবে যাবেন

জাতীয় বৃক্ষ মেলা ২০২৬ ঢাকার আগারগাঁওয়ের পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠে (শেরেবাংলা নগর) অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং আগামী ১৫ আগস্ট পর্যন্ত চলবে। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা খোলা থাকে, আর প্রবেশ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। শুধু ঢাকা নয়, দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় ও জেলা সদরেও একযোগে এই মেলা চলছে।

গতবারের মেলায় গিয়ে কিউই ফলের চারা দেখে বেশ অবাক হয়েছিলাম এত পরিচিত একটা বিদেশি ফলের গাছ যে ঢাকার মেলাতেই পাওয়া যাবে, তা আগে ভাবিনি। এবারের মেলায় সেই কিউই গাছ আরও বেশি স্টলে দেখা যাচ্ছে, যা বলে দেয় দেশে বিদেশি ফলগাছ চাষের আগ্রহ কতটা বেড়েছে। জাতীয় বৃক্ষ মেলা ২০২৬ আগারগাঁওয়ের পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত চলবে, প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা, প্রবেশ ফি ছাড়াই।

মেলার সময়সূচি ও স্থান কী?

জাতীয় বৃক্ষ মেলার সময়সূচি নিয়ে কিছুটা পরিবর্তন এসেছে। প্রাথমিকভাবে ঠিক হয়েছিল, মেলা শুরু হবে ২৩শে জুন এবং চলবে ৩রা জুলাই পর্যন্ত, অর্থাৎ টানা ১১ দিন। তবে বন বিভাগ থেকে এই সময়সূচী পরিবর্তনের প্রস্তাবনা আসে, এবং তা অনুমোদিতও হয়। নতুন সময়সূচী অনুযায়ী মেলা শুরু হয়েছে ১৫ই জুলাই থেকে এবং চলবে ১৫ই আগস্ট পর্যন্ত।

মেলার গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো একনজরে দেখে নিন:

বিষয়তথ্য
স্থানপুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠ, শেরেবাংলা নগর, আগারগাঁও, ঢাকা
চূড়ান্ত সময়সূচি১৫ই জুলাই থেকে ১৫ই আগস্ট, ২০২৬
দৈনিক সময়সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা
প্রবেশ ফিসম্পূর্ণ উন্মুক্ত (ফ্রি)
আয়োজকপরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং বন বিভাগ
স্টল সংখ্যাপ্রায় ১২০টি

শুধু ঢাকা নয়, বিভাগীয় ও জেলা সদরগুলোতেও একই ধরনের বৃক্ষমেলা চলছে। যেমন জয়পুরহাটে ‘বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ১০ দিনব্যাপী বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা শুরু হয়েছে, যা আগামী ২৭ জুলাই পর্যন্ত সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। প্রাথমিক সময়সূচি ছিল ২৩শে জুন থেকে ৩রা জুলাই, তবে সংশোধিত ও চূড়ান্ত সময়সূচি অনুযায়ী মেলা চলছে ১৫ই জুলাই থেকে ১৫ই আগস্ট পর্যন্ত, প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা।

আপনার জন্যঃ ভিডিও দেখে টাকা ইনকাম করার অ্যাপস

মেলায় কী কী পাওয়া যাচ্ছে?

জাতীয় বৃক্ষ মেলা শুধু চারা কেনার জায়গা নয় এটি গাছ সম্পর্কে জানা এবং বাগান করার আইডিয়া নেওয়ার এক বিশাল প্ল্যাটফর্ম। প্রায় ১২০টি স্টলে দেশি-বিদেশি দুর্লভ ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারার পাশাপাশি ছাদবাগানের জন্য বামন জাতের ফলগাছ, অর্কিড এবং ইনডোর প্ল্যান্টও প্রদর্শিত ও বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া রয়েছে পরিবেশবান্ধব পণ্য, কৃষি পরামর্শ এবং বনজ সম্পদ সম্পর্কিত নানাবিধ তথ্য পাওয়ার ব্যবস্থা।

ফলের গাছ

আম, লিচু, পেয়ারা, কুল, ডালিম থেকে শুরু করে ড্রাগন ফল, স্ট্রবেরি, কাজুবাদাম এবং কিউই ফলের মতো আকর্ষণীয় সব গাছের চারা পাওয়া যাচ্ছে মেলায়।

ফুল ও শোভাবর্ধক গাছ

গোলাপ, জবা, রজনীগন্ধা, হাসনাহেনা, কনকচাঁপা, বেলি এবং নয়নতারার মতো ফুলগাছ দিয়ে বাড়ির আঙিনা বা বারান্দা রঙিন করে তোলার সুযোগ রয়েছে।

ইনডোর প্ল্যান্ট

ঘরের ভেতর সাজানোর জন্য মানি প্ল্যান্ট, স্নেক প্ল্যান্ট, জেড প্ল্যান্ট, অ্যালোভেরা এবং অর্কিডের বিশাল সমাহার রয়েছে, যা এখন শহুরে অ্যাপার্টমেন্ট জীবনের সবুজায়নের জন্য বেশ জনপ্রিয়।

বনজ ও ভেষজ গাছ

নিম, অর্জুন, আমলকী, তুলসী এবং লেমনগ্রাসের মতো ঔষধি ও বনজ গাছও মেলায় পাওয়া যাচ্ছে, যা প্রাকৃতিক স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবেশ সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বাগানের সরঞ্জাম

গাছ ছাড়াও এখানে ভালো মানের মাটি, জৈব সার, বীজ, বিভিন্ন সাইজের টব এবং গার্ডেনিং টুলস পাওয়া যায়, ফলে এক জায়গা থেকেই বাগান করার সব উপকরণ সংগ্রহ করা সম্ভব।

“পরিকল্পিত বনায়ন করি, সবুজ বাংলাদেশ গড়ি” এই স্লোগানকে বুকে ধারণ করে জাতীয় বৃক্ষ মেলা ২০২৬ হতে পারে আপনার বাগান শুরুর প্রথম ধাপ। পরিবারের সবাইকে, বিশেষ করে শিশুদের নিয়ে মেলায় ঘুরে আসুন গাছ চেনা ও প্রকৃতির সঙ্গে সম্পর্ক তৈরির জন্য এটি একটি চমৎকার সুযোগ। মেলায় ফলদ, ফুল, ইনডোর প্ল্যান্ট, বনজ-ভেষজ গাছ এবং বাগানের যাবতীয় সরঞ্জাম সবকিছুই এক জায়গায় পাওয়া যাচ্ছে।

বৃক্ষ মেলা কেন গুরুত্বপূর্ণ?

শুধু গাছ কেনাবেচার একটি মেলা হিসেবে না দেখে এটিকে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার একটি গণসচেতনতামূলক উদ্যোগ হিসেবেও দেখা যায়। বন বিভাগের তথ্যমতে, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় প্রতিবছর এই মেলার আয়োজন করে থাকে, যার মূল লক্ষ্য বৃক্ষরোপণে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করা এবং বনায়নের হার বাড়ানো।

শহুরে জীবনে সবুজের পরিমাণ দিন দিন কমে আসছে। ছাদবাগান বা বারান্দা বাগান তাই এখন শুধু শখ নয়, বরং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার একটি ছোট্ট কিন্তু কার্যকর পদক্ষেপ। এই মেলা থেকে বামন জাতের ফলগাছ ও ইনডোর প্ল্যান্ট কিনে যে কেউ নিজের ছাদ বা বারান্দাতেই একটি ছোট বাগান গড়ে তুলতে পারেন। ছাদবাগানের জন্য উপযুক্ত গাছ নির্বাচন নিয়ে বিস্তারিত জানতে পড়তে পারেন [Internal Link Placeholder]।

শিশুদের জন্যও এই মেলা একধরনের শিক্ষা। বইয়ে পড়া গাছের নাম বাস্তবে চোখে দেখা, গাছের পরিচর্যা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া এবং প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা তৈরি করার এক দারুণ সুযোগ এই মেলা। পরিবেশ ও প্রতিবেশের উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যেও এ ধরনের মেলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

গাছ কেনার আগে কোন বিষয়গুলো মাথায় রাখবেন?

মেলায় গিয়ে তাড়াহুড়ো করে গাছ কিনে ফেললে পরে আফসোস করতে হতে পারে। তাই যাওয়ার আগে কিছু বিষয় মাথায় রাখা ভালো:

  • দাম যাচাই করুন: প্রথম স্টল দেখেই গাছ কিনে ফেলবেন না। একই গাছ ৩-৪টি স্টলে ঘুরে দাম যাচাই করে নিন।
  • একসাথে কিনুন: কয়েকটি গাছ একসাথে কিনলে বিক্রেতারা সাধারণত ভালো ছাড় দিয়ে থাকেন।
  • সুস্থ চারা বাছাই করুন: কেনার আগে গাছের পাতা, গোড়া এবং শিকড় ভালো করে খেয়াল করুন। পাতায় দাগ বা গোড়া পচা থাকলে সেই গাছ এড়িয়ে চলুন।
  • প্রয়োজনীয় জিনিস সাথে রাখুন: মেলায় প্রচুর হাঁটতে হয়, তাই সাথে পানির বোতল রাখুন। অনেক স্টলে কার্ড বা মোবাইল ব্যাংকিং থাকলেও দ্রুত কেনাকাটার জন্য ক্যাশ টাকা সাথে রাখা ভালো। এছাড়া বেশি গাছ কিনলে সাথে বড় টেকসই ব্যাগ বা কার্টুন নিতে পারেন।
  • ভিড় এড়াতে: ছুটির দিনগুলোতে মেলায় উপচে পড়া ভিড় থাকে। শান্তিতে গাছ দেখতে চাইলে সকাল ৯টা থেকে ১১টার মধ্যে মেলায় যাওয়ার চেষ্টা করুন।

দাম যাচাই, স্বাস্থ্যকর চারা বাছাই এবং ভিড় এড়িয়ে সকালের দিকে মেলায় যাওয়া—এই কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখলে কেনাকাটা অনেক সহজ হয়ে যায়।

স্টল বরাদ্দ ও নিয়োগ সংক্রান্ত তথ্য

জাতীয় বৃক্ষমেলার নতুন সময়সূচী একটি বৈঠকে উত্থাপিত হয়ে অনুমোদিত হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় স্টল বরাদ্দ এবং জনবল নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ের প্রতি সবার আগে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রতিবছর অনেক স্কুল, কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এই মেলায় খণ্ডকালীন কাজ করে থাকেন। তাই তাদের আগামী ১৫ই জুনের মধ্যে অনলাইনে আবেদন করার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে স্টল বরাদ্দ নিয়েও একটি নোটিস প্রকাশ করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের খণ্ডকালীন নিয়োগের জন্য আবেদনের শেষ তারিখ ছিল ১৫ই জুন, এবং স্টল বরাদ্দ সংক্রান্ত নোটিসও ইতিমধ্যে প্রকাশ করা হয়েছে।

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

জাতীয় বৃক্ষ মেলা ২০২৬ কবে শুরু হবে এবং কতদিন চলবে?

প্রাথমিক অবস্থায় ২০২৬ সালের জাতীয় বৃক্ষ মেলা ২৩শে জুন থেকে শুরু হয়ে ৩রা জুলাই পর্যন্ত টানা ১১ দিন চলার কথা ছিল। তবে বন বিভাগ থেকে সময়সূচী পরিবর্তনের প্রস্তাবনা আসায়, নতুন সময়সূচী অনুসারে মেলা ১৫ই জুলাই থেকে শুরু হয়ে ১৫ই আগস্ট পর্যন্ত চলবে।

জাতীয় বৃক্ষ মেলা ২০২৬ কোথায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে?

মেলাটি ঢাকার শেরেবাংলা নগরের পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠে (আগারগাঁও) অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা প্রাঙ্গণ দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকে।

মেলায় প্রবেশের জন্য কি টিকিট কাটতে হয়?

না, জাতীয় বৃক্ষ মেলায় প্রবেশের জন্য কোনো টিকিট বা প্রবেশ মূল্যের প্রয়োজন নেই। মেলা সবার জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত।

বৃক্ষ মেলায় কি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হয়েছে?

প্রতিবছরের মতো এবারও মেলায় জনবল নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। নিয়োগের জন্য নার্সারি মালিকের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা যেতে পারে অথবা অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আবেদন করা যায়।

ঢাকা ছাড়া অন্য কোথাও কি বৃক্ষমেলা চলছে?

হ্যাঁ, ঢাকার পাশাপাশি বিভাগীয় ও জেলা সদরগুলোতেও বৃক্ষমেলা চলছে। যেমন জয়পুরহাটে ‘বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে ১০ দিনব্যাপী বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা শুরু হয়েছে, যা আগামী ২৭ জুলাই পর্যন্ত চলবে।

মেলায় কী ধরনের গাছ পাওয়া যায়?

মেলায় ফলদ (আম, লিচু, ড্রাগন ফল, কিউই ইত্যাদি), ফুল ও শোভাবর্ধক গাছ, ইনডোর প্ল্যান্ট, এবং বনজ-ভেষজ গাছ—সব ধরনের চারাই পাওয়া যায়। পাশাপাশি মাটি, সার, বীজ, টব ও গার্ডেনিং টুলসও কেনা যায়।

মেলায় গিয়ে গাছ কেনার আগে কী সতর্কতা নেওয়া উচিত?

একই গাছ কয়েকটি স্টলে দাম যাচাই করে দেখা, গাছের পাতা ও শিকড় পরীক্ষা করে সুস্থ চারা বাছাই করা এবং ছুটির দিনের ভিড় এড়াতে সকালের দিকে যাওয়া—এই বিষয়গুলো মাথায় রাখলে কেনাকাটা সহজ হয়।

মেলা কি সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও খোলা থাকে?

হ্যাঁ, মেলাটি সপ্তাহের প্রতিদিনই সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা থাকে, ছুটির দিনও এর ব্যতিক্রম নয়। তবে ছুটির দিনগুলোতে দর্শনার্থীর সংখ্যা তুলনামূলক বেশি থাকে।

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *